بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

ইমাম জাফর সাদিক (আ.)-এর লানত
এবং আয়িশার ঘর থেকে ফিতনার উত্থান

চার পুরুষ ও চার নারীর উপর অভিশাপ — ইতিহাস ও হাদিসের আলোকে

📖 বিনামূল্যে PDF ডাউনলোড করুন

এই গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক গবেষণামূলক বইটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডাউনলোড করুন এবং শেয়ার করুন

PDF ডাউনলোড করুন (ফ্রি)

অথবা নিচে অনলাইনে পড়ুন ⬇️

মূল বই সম্পর্কে

বই: জান্নাতে যেতে হলে জানতে হবে — সাইয়্যেদা ফাতিমা যাহরা (সা.): নবুওয়াত ও ইমামাতের নিবন্ধন

লেখক: মো. মনিরুজ্জামান জনি

মূল্য: ৫,০০০৳ (কালার- ১০,০০০৳)

প্রকাশক: বেলায়েত মিডিয়া

পেমেন্ট: ০১৭০৭০৭০৮৩৫ (বিকাশ/নগদ)

মুখবন্ধ: সত্যের মুখোমুখি

ইসলামের ইতিহাসে এমন কিছু সত্য রয়েছে যা উচ্চারণ করতে গেলে হৃদয় কেঁপে ওঠে, কিন্তু নীরব থাকলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বিভ্রান্তির অন্ধকারে হারিয়ে যায়। আজ আমরা এমনই একটি ঐতিহাসিক সত্যের সামনে দাঁড়িয়ে আছি — এমন এক সত্য যা শিয়া হাদিসের সবচেয়ে বিশ্বস্ত গ্রন্থ আল-কাফি এবং তাহযীব আল-আহকাম-এ সংরক্ষিত আছে, এবং যার প্রতিধ্বনি সুন্নি হাদিসের সহিহ বুখারিসহিহ মুসলিম-এও শোনা যায়।

এই খুতবায় আমরা প্রমাণ করব যে ইমাম জাফর সাদিক (আ.) — যিনি নবী (সা.)-এর পঞ্চম প্রজন্মের বংশধর এবং আহলে বাইতের ষষ্ঠ ইমাম — প্রতিটি ফরজ নামাজের পর চার পুরুষ এবং চার নারীর উপর লানত (অভিশাপ) পাঠ করতেন। এবং এই চার নারীর মধ্যে প্রথম ছিলেন আয়িশা বিনতে আবু বকর — যাঁর ঘর সম্পর্কে স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে এখান থেকে ফিতনা (বিশৃঙ্খলা) বের হবে এবং শয়তানের শিং উত্থিত হবে।

প্রথম অংশ: ইমাম জাফর সাদিক (আ.)-এর লানত — আল-কাফি ও তাহযীব আল-আহকামের সাক্ষ্য

আল-কাফি — শিয়াদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত হাদিস গ্রন্থ

আল-কাফি হলো শিয়া ইসলামের সবচেয়ে প্রামাণিক হাদিস সংকলন, যা শাইখ আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-কুলাইনি (মৃত্যু: ৩২৯ হিজরি) সংকলন করেছেন। এই গ্রন্থের খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৪২-এ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা রয়েছে যেখানে ইমাম জাফর সাদিক (আ.)-এর নিয়মিত আমল উল্লেখ করা হয়েছে।

سَمِعْنَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ (الإمام الصادق) عَلَيْهِ السَّلَامُ وَهُوَ يَلْعَنُ فِي دُبُرِ كُلِّ مَكْتُوبَةٍ أَرْبَعَةً مِنَ الرِّجَالِ وَأَرْبَعًا مِنَ النِّسَاءِ

বাংলা অনুবাদ: আমরা আবা-আবদিল্লাহ (ইমাম জাফর সাদিক আলাইহিস সালাম)-কে শুনেছি যখন তিনি প্রতিটি ফরজ নামাজের পর চার পুরুষ এবং চার নারীর উপর লানত পাঠ করতেন।

📚 রেফারেন্স: আল-কাফি, শাইখ আল-কুলাইনি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৪২ • Al-Kafi by Al-Kulayni, Volume 3, Page 342

তাহযীব আল-আহকাম — আরও স্পষ্ট বর্ণনা

তাহযীব আল-আহকাম হলো শিয়া ফিকহের অন্যতম প্রামাণিক গ্রন্থ, যা শাইখ আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে হাসান আল-তুসি (মৃত্যু: ৪৬০ হিজরি) সংকলন করেছেন। এই গ্রন্থের খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩২১-এ আল-কাফির হাদিসটির আরও স্পষ্ট সংস্করণ রয়েছে।

التَّيْمِيُّ، وَالْعَدَوِيُّ، وَفُلَانٌ، وَمُعَاوِيَةُ - وَسَمَّاهُمْ - وَفُلَانَةُ، وَفُلَانَةُ، وَهِنْدُ، وَأُمُّ الْحَكَمِ
📚 রেফারেন্স: তাহযীব আল-আহকাম, শাইখ আল-তুসি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩২১ • Tahdheeb-ul-Ahkam by Al-Tousi, Volume 2, Page 321

'তায়মি' এবং 'আদাবি' — কোডেড নাম উন্মোচন

এখন প্রশ্ন জাগে: এই 'তায়মি', 'আদাবি' এবং 'অমুক' বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?

উত্তর সহজ এবং ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত:

এবং চার নারী:

  1. প্রথম নারী = আয়িশা বিনতে আবু বকর
  2. দ্বিতীয় নারী = হাফসা বিনতে ওমর
  3. তৃতীয় নারী = হিন্দ বিনতে উতবা (মুয়াবিয়ার মা)
  4. চতুর্থ নারী = উম্মুল হাকাম (মুয়াবিয়ার বোন)

তাকিয়্যা — জীবন রক্ষার জন্য সত্য গোপন

কিন্তু কেন এই কোডেড ভাষা? হাদিসে স্পষ্ট বলা আছে "وَسَمَّاهُمْ" (এবং তিনি তাঁদের নাম উচ্চারণ করতেন)। এর অর্থ হলো, ইমাম জাফর সাদিক (আ.) নিজে সরাসরি নাম উচ্চারণ করতেন। কিন্তু হাদিস বর্ণনাকারীরা উমাইয়া এবং আব্বাসি খলিফাদের নিষ্ঠুর শাসনামলে বাস করতেন। তাই তাঁরা কোডেড ভাষা ব্যবহার করেছেন — কিন্তু সাথে সাথে এই তথ্যও সংরক্ষণ করেছেন যে ইমাম নিজে স্পষ্ট নাম বলতেন।

দ্বিতীয় অংশ: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী — সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের সাক্ষ্য

আয়িশার ঘর — ফিতনা ও শয়তানের শিং

এখন প্রশ্ন আসে: কেন আয়িশার উপর লানত? এর উত্তর দিতে আমাদের ফিরে যেতে হবে স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে। এবং আশ্চর্যজনকভাবে, এই উত্তর সুন্নিদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত দুটি কিতাবে সংরক্ষিত আছে।

সহিহ বুখারির বর্ণনা:

عَنِ ابْنِ عُمَرَ: قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطِيبًا فَأَشَارَ نَحْوَ مَسْكَنِ عَائِشَةَ، فَقَالَ: هُنَا الْفِتْنَةُ — ثَلَاثًا — مِنْ حَيْثُ يَطْلُعُ قَرْنُ الشَّيْطَانِ

বাংলা অনুবাদ: আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত: নবী (সা.) খুতবা দেওয়ার জন্য দাঁড়ালেন এবং আয়িশার ঘরের দিকে ইশারা করে তিনবার বললেন: "এখানে ফিতনা, এখানে ফিতনা, এখানে ফিতনা — যেখান থেকে শয়তানের শিং উঠবে।"

📚 রেফারেন্স: সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৩১০৪ • Sahih Bukhari, Hadith No. 3104 • https://sunnah.com/bukhari:3104

সহিহ মুসলিমের বর্ণনা:

خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ بَيْتِ عَائِشَةَ فَقَالَ: رَأْسُ الْكُفْرِ مِنْ هَاهُنَا، مِنْ حَيْثُ يَطْلُعُ قَرْنُ الشَّيْطَانِ

বাংলা অনুবাদ: নবী (সা.) আয়িশার ঘর থেকে বের হয়ে বললেন: "কুফরের শীর্ষ এখান থেকে, যেখান থেকে শয়তানের শিং উঠবে।"

📚 রেফারেন্স: সহিহ মুসলিম, কিতাব আল-ফিতান, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২২২৯

তৃতীয় অংশ: জামাল যুদ্ধ — ভবিষ্যদ্বাণীর ভয়াবহ বাস্তবায়ন

হাওয়াবের কুকুর — আরেকটি সতর্কবার্তা

নবী (সা.) শুধু আয়িশার ঘর সম্পর্কেই ভবিষ্যদ্বাণী করেননি। তিনি আরও একটি নির্দিষ্ট সতর্কবাণী দিয়েছিলেন:

أَيَّتُكُنَّ صَاحِبَةُ الْجَمَلِ الْأَدْبَبِ تَنْبَحُ عَلَيْهَا كِلَابُ الْحَوْأَبِ

বাংলা অনুবাদ: তোমাদের মধ্যে কোন একজনের জন্য কী হবে যখন হাওয়াবের কুকুর তার উপর ঘেউ ঘেউ করবে?

৬৫৬ খ্রিস্টাব্দে, যখন আয়িশা বসরার দিকে সেনাবাহিনী নিয়ে অগ্রসর হচ্ছিলেন ইমাম আলি (আ.)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে, তখন হাওয়াব নামক স্থানে কুকুর তীব্রভাবে ঘেউ ঘেউ করে উঠল। আয়িশা তখন উপলব্ধি করলেন এটি নবীর ভবিষ্যদ্বাণী।

জামাল যুদ্ধ — ইসলামের প্রথম গৃহযুদ্ধ

৩৬ হিজরি, ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দের ১০ ডিসেম্বর — বসরার কাছে এক ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এক পক্ষে ছিলেন আমিরুল মুমিনীন ইমাম আলি (আ.) — যাঁকে মদিনার মুসলিমরা সর্বসম্মতিক্রমে খলিফা নির্বাচিত করেছিলেন। অন্য পক্ষে ছিলেন আয়িশা, তালহা এবং যুবায়ের।

এই যুদ্ধের ফলাফল:

সূরা তাহরীম: আল্লাহর সতর্কবাণী

আল্লাহ তায়ালা সূরা তাহরীমে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দুই স্ত্রীর উদ্দেশ্যে সরাসরি বলেন:

إِن تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا ۖ وَإِن تَظَاهَرَا عَلَيْهِ فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ مَوْلَاهُ وَجِبْرِيلُ وَصَالِحُ الْمُؤْمِنِينَ

বাংলা অনুবাদ: "যদি তোমরা উভয়ে আল্লাহর কাছে তওবা করো—কারণ তোমাদের অন্তর সত্য থেকে বিচ্যুত হয়ে গিয়েছে। আর যদি তোমরা তাঁর (নবীর) বিরুদ্ধে পরস্পর সাহায্য করো, তাহলে জেনে রাখো: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাহায্যকারী, এবং জিবরাঈল ও মুমিনদের মধ্যে সৎকর্মশীলরা।"

📚 রেফারেন্স: আল-কুরআন, সূরা তাহরীম (৬৬): আয়াত ৪-৫

নূহ ও লূতের স্ত্রীগণ — চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত

ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا لِّلَّذِينَ كَفَرُوا امْرَأَتَ نُوحٍ وَامْرَأَتَ لُوطٍ ۖ كَانَتَا تَحْتَ عَبْدَيْنِ مِنْ عِبَادِنَا صَالِحَيْنِ فَخَانَتَاهُمَا فَلَمْ يُغْنِيَا عَنْهُمَا مِنَ اللَّهِ شَيْئًا وَقِيلَ ادْخُلَا النَّارَ مَعَ الدَّاخِلِينَ

বাংলা অনুবাদ: "আল্লাহ কাফিরদের জন্য নূহ ও লূতের স্ত্রীদের দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন। তারা আমার দুই সৎকর্মশীল বান্দার অধীনে ছিল, কিন্তু তারা তাঁদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। এবং তাদের বলা হলো: জাহান্নামে প্রবেশকারীদের সাথে তোমরাও প্রবেশ করো।"

📚 রেফারেন্স: আল-কুরআন, সূরা তাহরীম (৬৬): আয়াত ১০

বার্তাটি স্পষ্ট:

  1. নবীর স্ত্রী হওয়া মুক্তির নিশ্চয়তা নয়
  2. বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্ককে বাতিল করে দেয়
  3. আনুগত্যই একমাত্র মানদণ্ড

শেষ কথা: সত্যের মুখোমুখি হওয়ার সাহস

এই খুতবায় আমরা যা প্রমাণ করেছি:

  1. ইমাম জাফর সাদিক (আ.) প্রতিটি ফরজ নামাজের পর লানত পাঠ করতেন — এটি আল-কাফি এবং তাহযীব আল-আহকাম-এ সহিহ সনদে বর্ণিত।
  2. রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই আয়িশার ঘর সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন — সহিহ বুখারি এবং সহিহ মুসলিম-এ স্পষ্টভাবে বর্ণিত।
  3. এই ভবিষ্যদ্বাণী জামাল যুদ্ধে ভয়াবহভাবে বাস্তবায়িত হয়েছিল — যেখানে ১০,০০০-৩০,০০০ মুসলিম শহীদ হন।
  4. শিয়া এবং সুন্নি উভয় সূত্রেই এই সত্য প্রমাণিত — এটি শুধু শিয়া দাবি নয়।

আয়াতুল্লাহ খামেনেই ফতওয়া দিয়েছেন যে আয়িশাকে গালি দেওয়া হারাম — কারণ তিনি নবীর স্ত্রী ছিলেন। কিন্তু তাঁর কর্মের সমালোচনা করা, তাঁর ঐতিহাসিক ভুলগুলো উল্লেখ করা, এবং তাঁর থেকে দ্বীন না নেওয়া — এটি শুধু বৈধ নয়, বরং আবশ্যক।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ

"হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সাথে থাকো।" — সূরা তাওবা (৯): ১১৯

তাহারা সেন্টার সম্পর্কে

তাহারা সেন্টার একটি আত্মিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র যেখানে আত্মশুদ্ধি এবং ইমাম মাহদি (আ.)-এর সৈনিক হিসেবে প্রস্তুতির জন্য বিশেষ কোর্স চালু আছে।

কোর্স: "ইমাম মাহদি (আ.)-এর দৃষ্টিতে সফলতার পথ"

কোর্স ফি: ১০,০০০৳ (এন্ট্রি), ২,০০০৳ (মাসিক)

ক্লাস: সপ্তাহে ২ দিন

যোগাযোগ: ০১৭০৭০৭০৮৩৫

দোয়া

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَىٰ مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ وَعَجِّلْ فَرَجَهُمْ وَالْعَنْ أَعْدَاءَهُمْ أَجْمَعِينَ

হে আল্লাহ, মুহাম্মাদ (সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের উপর দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

তাঁদের ফারাজ (মুক্তি) ত্বরান্বিত করুন এবং তাঁদের শত্রুদের উপর লানত করুন।