সুদ কি আসলেই হারাম?

💎💎💲💲সুদ💎💎💲💲

সুদ” ফারসী শব্দ, যার অর্থ লাভ। লাভের আরাবী শব্দ হচ্ছে “রেবা”। সুতরাং লাভ ও সুদ শব্দদ্বয়ের অর্থ একই। সুদ বা রেবা বা লাভ একটি সামগ্রিক শব্দ যা দুই ভাগে ভাগ করা যায়। এক: হালাল সুদ বা রেবা বা লাভ। দুই: হারাম সুদ বা রেবা বা লাভ। শব্দের ভিন্নতার কারণে অর্থ ও হুকুম ভিন্ন হয়ে যায় না। ব্যাংকে সংগ্রহিত গ্রাহকদের অর্থের উপর সুদ বা লাভ গ্রহণ হারাম নয়।

ব্যাংকিং সিসটেমে সুদ বা লাভ বা রেবা দুইভাবে বিভক্ত।

এক: একাউন্ট হোল্ডারদের পক্ষ থেকে গচ্ছিত অর্থের বিনিময়ে ব্যাংক যে লাভ বা সুদ বা রেবা প্রদান করে। একাউন্ট হোল্ডাররা যে অর্থ ব্যাংকে গচ্ছিত রাখে এবং দেশ ও সরকার তা ব্যাংকের মাধ্যমে বিভিন্ন অর্থনৈতিক লাভজনক কর্মকান্ডে ব্যবহার করে আর তা থেকে যে লাভ ব্যাংকের কাছে ফিরে আসে, ব্যাংক সেখান থেকে একাউন্ট হোল্ডারদের একটা খুবই স্বল্প অংশ প্রদান করে থাকে। একাউন্ট হোল্ডাররা যে অর্থ ব্যাকে রাখে তা আমানত ও লাভ নেয়ার নিয়ত করেই রাখে, আর তা না হলে ব্যাংকে না রেখে অন্য কোথায়ও রাখতো!! অর্থাত আমানত ও লাভ নেয়া এই দুইটা বিষয়ই একাউন্ট হোল্ডারদের নিয়তে কাজ করে। কারো কাছে অর্থ আমানত রাখার অর্থ এই নয় যে, এই অর্থ অলস পড়ে থাকবে। এই অর্থ দিয়ে আমানত গ্রহণকারী সংস্থা লাভজনক কাজে ব্যবহার করে অর্থ বাড়াবে এটাই তো স্বাভাবিক। আর সেই অর্থের নিরাপত্তাও রক্ষা করার দায়িত্ব নিচ্ছে ব্যাংক নামে এই আমানত গ্রহণকারী সংস্থা। তাই, একাউন্ট হোল্ডারদের গচ্ছিত এই অর্থের মোকাবেলায় সামান্য কিছু লাভ গ্রহণ কোন মতেই বিবেক ও শরীয়ত বিরোধী হতে পারে না। এই লাভ বা সুদ বা রেবা ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম নয়। বরং একাউন্ট হোল্ডারদের প্রাপ্য এর চেয়েও অনেক বেশী।দুই: ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঋণ দানের বিনিময়ে যে সুদ বা লাভ বা রেবা গ্রহণ করা হয়। কোন সম্পত্তি বা প্রজেক্ট বা ব্যবসা বা মূল্যবান কিছু ব্যাংকের কাছে জামানত হিসেবে রেখে সেই ব্যাংক থেকে সেই সম্পত্তির মালিক যে লোন বা ঋণ নেয়, সেই ঋণের মোকাবেলায় যে সুদ বা লাভ বা রেবা ধার্য করা হয় তার মধ্যে অর্থের মুদ্রাস্ফৃতি, নিরাপত্তা, কর্মচারীর বেতন ইত্যাদিসহ আরো অনেক কিছু সংযোগ করে একটা রেট ধরা হয়। এই সুদ, ঋণ গৃহীতাকে মূল ঋণের সাথে পরিশোধ করতে হয়। ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই সুদ বা রেবা গ্রহণ হারাম নয়। এটা ব্যাংকের প্রাপ্য। হ্যাঁ, ব্যাংক যদি ঋণ গ্রহীতার দেউলিয়া হবার প্রমাণ পাবার পরো তার উপর পুরো সুদ চাপিয়ে দেয় অথবা চক্রবৃদ্ধি সুদ গ্রহণে বাধ্য করে তাহলে সে ঋণ গ্রহীতার উপর জুলুম করলো বিধায় তখন ব্যাংকের জন্যে এই সুদ বা লাভ বা রেবা গ্রহণ হালাল হবে না।

 হারাম সুদ বা রিবা বা লাভঃ

✍ চক্রবর্তি সুদ বা লাভ বা রিবা, জুলুমের কারণ হয় যে সুদ বা রিবা বা লাভে, নিঃস করে দেয়া হয় যে সুদ বা রিবা বা লাভের মাধ্যমে এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে আদান প্রদানের মাধ্যমে সুদ বা রিবা বা লাভ- এগুলো সব হারাম সুদ বা রিবা বা লাভ।✍কিন্তু ব্যাংক থেকে যে সুদ বা লাভ গ্রহণ করা হয় তা সম্পূর্ণ হালাল। বরং আপনার প্রাপ্য এর চেয়ে আরো বেশী। আপনার উপর জুলুম করে আপনার যথার্থ প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

🙇“হে বিশ্বাসীরা, আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদ বাবদ মানুষের কাছে যা তোমাদের পাওনা আছে তা পরিত্যাগ কর, যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাক। (২:২৭৮)

“আর যদি তা না কর, তবে ধরে নেয়া হবে যে, তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছ। যদি তোমরা তাওবা কর, তবে তোমাদের জন্যই তোমাদের মূলধন রয়েছে। তোমরা সুদ নিয়ে অত্যাচার করো না এবং মূলধন হারিয়ে অত্যাচারিতও হয়ো না।” (২:২৭৯)

“ঋণী যদি অভাবগ্রস্ত হয়, তবে তার সচ্ছলতার জন্য অপেক্ষা কর, আর যদি ঋণ ফেরত দেয়ার ক্ষমতাই না থাকে তাহলে তাদের ঋণ মাফ করে দেয়াই উত্তম। যদি তোমরা তা জানতে।” (২:২৮০)

“তোমরা সেই দিনকে ভয় কর, যে দিন তোমরা আল্লাহর দিকে ফিরে যাবে, তখন যে যা অর্জন করেছে, তা সম্পূর্ণরূপে দেয়া হবে এবং তোমাদের ওপর অন্যায় করা হবে না।” (২:২৮১)4:01 PMহে ঈমানদারগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাকো, যাতে তোমরা কল্যাণ অর্জন করতে পারো। (সূরা আলে-ইমরান কুরআন 3:130বস্তুতঃ ইহুদীদের জন্য আমি হারাম করে দিয়েছি বহু পূত-পবিত্র বস্তু যা তাদের জন্য হালাল ছিল — তাদের পাপের কারণে এবং আল্লাহর পথে অধিক পরিমাণে বাধা দানের দরুন। আর এ কারণে যে, তারা সুদ গ্রহণ করত, অথচ এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল এবং এ কারণে যে, তারা অপরের সম্পদ ভোগ করতো অন্যায় ভাবে। বস্তুতঃ আমি কাফেরদের জন্য তৈরী করে রেখেছি বেদনাদায়ক শাস্তি। কিন্তু যারা তাদের মধ্যে জ্ঞানপক্ক ও ঈমানদার, তারা তাও মান্য করে যা আপনার উপর অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে আপনার পূর্বে। আর যারা সালাতে অনুবর্তিতা পালনকারী, যারা যাকাত দানকারী এবং যারা আল্লাহ ও কিয়ামতে আস্থাশীল। বস্তুতঃ এমন লোকদেরকে আমি দান করবো মহাপুণ্য। (সূরা নিসা কুরআন 4:160-162“মানুষের ঋণবৃদ্ধির জন্য তোমরা যে সুদ দিয়ে থাকো আল্লাহর দৃষ্টিতে তা ধনসম্পদ বৃদ্ধি করে না কিন্তু যে যাকাত তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দিয়ে থাকো তাই বৃদ্ধি পায় এবং তারাই সমৃদ্ধশালী।” (সুরা রুম :৩৯)

“এবং তাদের সুদ গ্রহণের জন্য যদিও তা তাদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং অন্যায়ভাবে লোকদের ধন সম্পদ গ্রাস করার জন্য আর আমি তাদের মধ্যে অবিশ্বাসীদের জন্য কষ্টদায়ক শাস্তি তৈরী করে রেখেছি।” (সুরা নিসা : ১৬১)

Leave a Comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.