কাবিলের কথা নিশ্চয়ই সবার মনে আছে!

কাবিলের কথা নিশ্চয়ই সবার মনে আছে ।
হযরত আদম (আঃ) এর পুত্র সন্তান ছিল সে ।
পৃথিবীর সর্বপ্রথম অন্যায় হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছিল এই কাবিলের হাতে ।
কাবিল হত্যা করেছিল তারই আপন ভাই হাবিলকে ।
হত্যাকান্ডের মূল কারন ছিল ক্ষমতার দ্বন্দ ।

কারন মহান আল্লাহ হাবিলকে হযরত আদম (আঃ) এর উত্তরসুরী , স্থলাভিষিক্ত , নবী , খলীফা হিসাবে মনোনীত ও নির্বাচিত করেছিলেন ।
মহান আল্লাহর এই নির্বাচনকে জনাব কাবিল মেনে নিতে পারেনি । তাই সে তারই আপন ভাইকে সরাসরি হত্যা করে ফেলল ।

হত্যাকান্ড যখন সংঘটিত হয় তখন দুভাইয়ের পিতা মাতা হজ্বে গিয়েছিলেন । হজ্ব থেকে ফিরে এসে যখন হযরত আদম (আঃ) এই হত্যাকান্ডর কথা জানতে পারলেন তখন উনি যতদিন বেঁচেছিলেন ততদিন হাবিলের জন্য ক্রন্দন ও শোক পকাশ করেছিলেন এবং কাবিলের উপর লানত প্রদান অব্যাহত রেখেছিলেন ।

পিতা মাতা ফিরে আসার পরে কাবিল পাহাড়ের পাদদেশে গিয়ে পলায়ন করেছিল পিতা আদম (আঃ) এর ইন্তেকাল পর্যন্ত । পাহাড়ের পাদদেশেই কাবিল তার দলবল নিয়ে সংসার ধর্ম করত । যদিও কাবিলের অভিভাবক ছিল স্বয় ঈবলীশ মহাশয় । মহান আল্লাহর ধর্মের বিপরীতে অন্য আরেকটি অধর্মের সুত্রপাত এই কাবিলের হাতেই হয়েছিল ।

কেয়ামত পর্যন্ত প্রকৃত মুমিন মুসলমানগন হাবিলের জঘন্য পৈশাচিক এই হত্যাকান্ডের জন্য শোক প্রকাশ করে এবং কাবিলকে সর্বোচ্চ ঘৃনা বা লানত প্রদান করে । এমনকি কাবিলকে প্রতক্ষ্য মদদদাতা ও ইন্ধনদাতা ঈবলীশকেও পৃথিবীর প্রতি মুমিন মুসলমানগন লানত প্রদান করে ।
এটাই আল্লাহর বিধান ।

মজলুমের পক্ষে কাঁদো ও হত্যাকারীকে ঘৃনা বা লানত প্রদান কর ।

যাহোক আমার কথার প্রসংগ এই বিষয় নয় ।
আমি শুধু বলতে চাচ্ছি যে , পৃথিবীর সর্বপ্রথম হত্যাটি হয়েছিল ক্ষমতার অবৈধ লোভে ও হিংসায় ।
একজন বা একপক্ষ মহান আল্লাহর মনোনয়ন মেনে নিতে পারল না । যে পক্ষ মেনে নিল না সে পক্ষ সরাসরি আল্লাহ কতৃক মনোনীত ব্যক্তিকে অন্যায় ভাবে হত্যা করল !
এবং ক্ষমতার এই বিশাল লোভ যুগে যুগে পৃথিবীতে রক্ত ঝরিয়েছে ।

পাঠক ,
ঠিক এই বিষয়টির পুনরাবৃত্তি হয়েছিল মহানবী (সাঃ) এর ওফাতের পর পরই ।
বিদায় হজ্ব থেকে ফেরার পথে গাদীর এ খুম নামক স্থানে মহান আল্লাহর আদেশ বাস্তবায়ন করেছিলেন নবীজী (সাঃ) ।
অর্থাৎ মহান আল্লাহ কতৃক নির্বাচিত মহানবী (সাঃ) এর উত্তরসুরী , স্থলাভিষিক্ত , ইমাম ও খলীফা হিসাবে হযরত আলী ইবনে আবু তালিব (আঃ) কে সোয়ালক্ষ হজ্ব ফেরৎ হাজী সাহাবাগনের সম্মুখে প্রকাশ্যে ঘোষনা দিলেন ।

নব্য এই কাবিল গ্রুপটি নবীজী (সাঃ) এর ওফাতের তিনদিন পূর্বে বনু সকীফাতে বসে আল্লাহ কতৃক নির্বাচিত ইমাম ও খলীফাকে ক্ষমতার ধারে কাছে আসতেই দিল না । ডাইরেক্ট গদী দখল করে নিল কাবিল গ্রুপ ।

এরপর শুরু হল –
একে একে হত্যাকান্ড । প্রায় ২৪০ বছর ধরে আল্লাহ কতৃক মনোনীত ও নির্বাচিত পবিত্র ইমাম (আঃ) গনকে নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করা হল ।

পাঠক ,
অদ্ভুত একটা বিষয় খেয়াল করুন ।
একই জঘন্য অপকর্ম করে কাবিল এখন পর্যন্ত মহালানত প্রাপ্ত হয়ে রইল ।
কিন্ত একই অপকর্ম করে বনু সকীফা থেকে জন্ম নেওয়া কাবিল গ্রুপটা পৃথিবীর শতকরা ৮০ ভাগ মুসলিমদের কাছে আশারা মোবাশশারা রাঃআনহু মার্কা কাতেবে ওহী জ্বলীল ক্বদর সাহাবা হয়েই রইল !

Leave a Comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.