ডায়াবেটিস ঝুঁকি কমাবেন কী করে

ডায়াবেটিস একটি বড় সমস্যা পৃথিবীজুড়ে, আর একে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে মনে হয় না। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের (আইডিএফ) একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৫৫২ মিলিয়ন লোক, অর্থাৎ ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক লোকের একজন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবে ২০৩০ সালের মধ্যে। তা-ই যদি সত্যি হয়, তাহলে দুই দশকের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ে ২০০ মিলিয়ন বা এরও বেশি লোক আসবে নতুন স্বাস্থ্য-সমস্যা হিসেবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমান, বর্তমানে এ রোগে ভুগছে ৩৪৬ মিলিয়ন লোক। ডায়াবেটিস বেড়ে যাওয়ার মূলে অন্তর্গত কারণ জীবনযাপনে পরিবর্তন, মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি, অধিক হারে রোগনির্ণয় ও তরুণদের মধ্যে স্থূলতা বেড়ে যাওয়া।
ডায়াবেটিস ফেডারেশনের বক্তব্য, ইদানীং ডায়াবেটিস বাড়ছে শিশু ও তরুণদের মধ্যে। ২০ বছর আগে তরুণদের মধ্যে ডায়াবেটিস ছিল অত্যন্ত নগণ্য। তবে কথা হলো, টাইপ-২ ডায়াবেটিস পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য; প্রয়োজন লাইফ স্টাইলে সামান্য পরিবর্তন। এ ক্ষেত্রে ব্যায়াম ও খাদ্যবিধি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র পাঁচটি সহজ অভ্যাস চর্চা করলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানো যায় ৮০ শতাংশ।

কী করা উচিত
 স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া: প্রচুর ফল ও শাকসবজি।
 সপ্তাহে অন্তত তিন দিন ২০ মিনিট করে ব্যায়াম।
 স্বাভাবিক দেহ ওজন বজায় রাখা (বিএমআই ১৮.৫-২৪.৯-এর মধ্যে রাখা)।
 ধূমপান করে থাকলে বর্জন করা।
 মদ্যপান করলে সামান্য করা। আমার পরামর্শ, মদ্যপান না করা।
এই পাঁচটি গাইডলাইন মেনে চললে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ বেশ ফলপ্রসূ হয়। বিজ্ঞানীরা বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দেহের স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখা। স্বাভাবিক ওজনের পুরুষের ভারী ওজন বা স্থূল পুরুষের তুলনায় ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা ৭০ শতাংশ কম। স্বাভাবিক ওজনের নারীদের ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা ৭৮ শতাংশ কম।
আবার ভারী ওজনের লোক যদি একটি অভ্যাস চর্চা করে, যেমন—সপ্তাহে তিন দিন ব্যায়াম করে, তাতেও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তাদের অনেক কমে।

অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরীর কলম থেকে
পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস, বারডেম হাসপাতাল, সাম্মানিক অধ্যাপক ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, মার্চ ০৭, ২০১২

Leave a Comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.