আমার উপর সম্পূর্ণ সালাওয়াত পাঠ কর

আমার উপর সম্পূর্ণ সালাওয়াত পাঠ কর

আমার উপর সম্পূর্ণ সালাওয়াত পাঠ কর ।
১। রাসূল(সা.) বলেছেন:
আমার উপর অসম্পূর্ণ সালাওয়াত পাঠ কর না। জিজ্ঞাসা করল: অসম্পূর্ণ সালাওয়াত মানে কি?
তিন বললেন: আমার উপর সালাওয়াত পাঠ করার পর আমার পবিত্র আহলে বাইতের উপর সালাওয়াত পাঠ না করা। পরিপূর্ণ সালাওয়াত হচ্ছে এরূপ: “আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলি মুহাম্মাদ।”
اللّهُمَّ صَلِّی عَلی مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ.
২। ইমাম জাফর সাদিক(আ.) বলেছেন:
যে ব্যক্তি যোহর ও আসরের নামাযরে মাঝে রাসূল(সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের উপর দরুদ পাঠ করবে তার পুরষ্কার হচ্ছে ৭০ রাকাত নামাযের সওয়াবের সমপরিমাণ সওয়াব।
৩। ইমাম জাফর সাদিক(আ.) বলেছেন:
যে ব্যক্তি ফজর ও যোহরের নামাযরে পর মুহাম্মাদ(সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের উপর দরুদ পাঠ করবে, সে ব্যক্তি ইমাম মাহদী(আ.)-কে যিয়ারত না করা পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না।
৪। তিনি আরো বলেছেন:
যে ব্যক্তি যোহর ও আসরের নামাযরে পর মুহাম্মাদ(সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের উপর দরুদ পাঠ করবে, ৭০ রাকাত নামাযের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে।
৫। রাসূল(সা.) বলেছেন:
যে ব্যক্তি আমার উপর সালাওয়াত পাঠ করবে অথচ আহলে বাইতের উপর দরুদ পাঠ করবে না, সে বেহেশতের সুগন্ধ থেকে বঞ্চিত হবে। যদিও বেহেশতের সুঘ্রাণ ৫০০ মাইল দূর থেকেও পাওয়া যায়।
৬। রাসূল(সা.) আরো বলেছেন:
যে ব্যক্তি আমার ও আমার আহলে বাইতের উপর বেশী বেশী দরুদ পাঠ করবে , সে মৃত্যুর যন্ত্রণা থেকে পরিত্রাণ পাবে।
৭। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ(সা.) বলেছেন:
যে ব্যক্তি এই দরুদ اللّهُمَّ صَلِّی عَلی مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ. পাঠ করবে, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে ৭২ জন শহীদের মর্যাদা দান করবেন এবং সকল গোনাহ থেকে পবিত্র করবেন যেমনটি সে জন্মলগ্নে ছিল।
৮। তিনি আরো বলেছেন:
যখন কোন কিছু ভুলে যাবে তখন আমার ও আমার পবিত্র আহলে বাইতের উপর দরুদ পাঠ করবে তাহলে আবার তা মনে পড়বে ইনশাআল্লাহু তায়ালা।
৯। ইমাম আলী (আ.) বলেছেন:
যে কোন দোয়ার পূর্বে ও পরে মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর আহলে বাইতের উপর সালাওয়াত পাঠ করলে সে দোয়া কবুল হবে।
১০। রাসূল (সা.) বলেছেন:
সালাওয়াত পাঠ করলে দারিদ্রতা দূর হয়।
১১। তিনি আরো বলেছেন:
যে ব্যক্তি আমার ও আমার পবিত্র আহলে বাইতের উপর দরুদ পাঠ করবে, তার কাছে যে দুটি ফেরেশতা আছে তারা তিনদিন তার কোন গোনাহ লিখবে না (অর্থাৎ তাকে তিন দিন পর্যন্ত তওবা করার সময় দেয়া হবে)।
১২। ইমাম জাফর সাদিক(আ.) বলেছেন:
যে ব্যক্তি শুক্রবারে জুময়া অথবা যোহরের নামাযের পর এই দরুদ পাঠ করবে পরের শুক্রবার পর্যন্ত সকল অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকবে। দরুদটি নিম্নরূপ: “আল্লাহুম্মা আজয়াল সালাওয়াতিকা ওয়া সালাওয়াতি মালায়িকাতিকা ওয়া রাসূলিকা আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলি মুহাম্মাদ।”
اللّهُمَّ أجعل صَلواتکَ و صلوات ملائکتک و رسولک عَلی مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ.
১৩। রাসূল(সা.) বলেছেন:
আমার ও আমার পবিত্র আহলে বাইতের উপর সালাওয়াত পাঠ করলে তোমাদের দোয়া কবুল হবে এবং তোমাদের নেক আমল বৃদ্ধি পাবে।
১৪। তিনি আরো বলেছেন:
আমার ও আমার পবিত্র আহলে বাইতের উপর সালাওয়াত পাঠ হচ্ছে পুল সিরাতের আলো আর যার কাছে পুল সিরাতের আলো থাকবে সে জাহান্নামী হবে না।
১৫। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন:
সেই ব্যক্তি কৃপণ যার কাছে আমার নাম নেয়া হয় অথচ সে আমার ও আমার পবিত্র আহলে বাইতের উপর সালাওয়াত পাঠ করে না।
১৬। তিনি আরো বলেছেন:
যে ব্যক্তি আমাকে স্মরণ করবে অথচ আমার ও আমার পবিত্র আহলে বাইতের উপর সালাওয়াত পাঠ করবে না সে হতভাগা।
১৭। তিনি বলেছেন:
যে ব্যক্তি ১০০বার দরুদ পাঠ করবে মহান আল্লাহ্ তার ১০০টি চাওয়া পূর্ণ করবেন।
১৮। রাসূল(সা.) বলেছেন:
যে ব্যক্তি আমার ও আমার পবিত্র আহলে বাইতের উপর এক বার সালাওয়াত পাঠ করবে মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তার জন্য সুস্থতা ও কল্যাণের দরজা খুলে দিবেন।
১৯। তিনি আরও বলেছেন:
আখিরাত বা বিচার দিবসের জন্য তিনটি আমল সর্বোত্তম যথা: ১। মুহাম্মাদ ও তাঁর আহলে বাইতের প্রতি দরুদ পাঠ করা, ২। পিপাসিতকে পানি পান করানো, ৩। আলী(আ.)-এর প্রতি অনুরাগ ও ভালবাসা পোষণ করা।
২০। ইমাম জাফর সাদিক(আ.) বলেছেন:
শুক্রবারে ১০০০ বার এবং অন্যান্য দিনে ১০০ বার মহানবী হযরত মুহাম্মাদ(সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি দরুদ পাঠ করা মুস্তাহাব।
** মহানবী হযরত মুহাম্মাদ(সা.)-কে স্বপ্নে দেখার একটি উপায় হচ্ছে, সর্বদা পবিত্র অবস্থায় তাঁর উপর দরুদ পাঠ করা। দরুদটি এরূপ: “আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলি মুহাম্মাদিন ওয়া সাল্লামা কামা তুহিব্বু ওয়া তারযা।”

اللّهُمَّ صَلِّی عَلی مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ وَ سَلَّمَ کَما تُحِبُّ وَ تَرضَی.

সূত্রঃ ইন্টারনেট

Leave a Comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.