লোভী ইঁদুর

অনেক দিন আগের কথা। একটি ছোট গ্রামে বাস করত এক বৃদ্ধ চাষী। তার ছিল কিছু কৃষি জমি। এ জমিতে সে গমের চাষ করত এবং গম থেকে তৈরি রুটি খেয়ে জীবনধারণ করত। প্রতিবছর তার জমিতে প্রচুর গম হতো। কৃষক তার উৎপাদিত গম বড় বড় বস্তায় ভরে ঘরের এক কোনায় রেখে দিত।

একদিন দুটি ইঁদুর এই গম দেখতে পেল এবং সঙ্গে সঙ্গেই তারা একটা পরিকল্পনা আঁটলো। তারা ঘরের দেয়ালে একটি গর্ত করল। কৃষক বাইরে চলে গেলেই ইঁদুর দুটি গর্ত থেকে বেরিয়ে আসত এবং বস্তা ছিদ্র করে গম বের করে নিজেদের গর্তে নিয়ে যেত। এভাবে দিন যেতে থাকল এবং একসময় অনেক গম তাদের গর্তে জমা হলো।

একদিন এক ইঁদুর অপর ইঁদুরকে বলল : শোন বন্ধু! আমরা অনেক গম জমা করেছি। কৃষক জানার আগেই আমাদের গম নেয়া বন্ধ করা উচিত। আর তা না হলে আমরা বিপদে পড়ে যেতে পারি।

দ্বিতীয় ইঁদুরটি বলল : তুমি এসব কি বলছআমরা কখনো এমন সুযোগ আর পাব না। কৃষক জানার আগেই চল আমরা আরো গম মজুত করি। ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

প্রথম ইঁদুরটি বলল : আমি আর তোমার সঙ্গে আসতে চাই না। কারণআমি আমার জীবনকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে চাই না।

জবাবে দ্বিতীয় ইঁদুর বলল : তুমি আস্ত একটা ভীতু। আগামীকাল থেকে আমি একাই এখানে আসব এবং গম নিয়ে গর্ত ভর্তি করব। তোমার মতো একজন ভীতু বন্ধুর আমার প্রয়োজন নেই।

পরের দিন থেকে লোভী ইঁদুরটি তার নিজের জন্য আরো গম সংগ্রহ শুরু করল।

একদিন কৃষক মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল যেতার গমের বস্তাগুলো পরীক্ষা করে দেখবে। গমের বস্তার কাছে গিয়ে কৃষক দেখতে পেল সবগুলো বস্তাতেই শুধু ছিদ্র আর ছিদ্র। এতে তার খুব রাগ হলো। সে ইঁদুর ধরার জন্য একটি ফাঁদ বস্তার কাছে পেতে রাখল। লোভী ইঁদুরটি যখন গম নিতে বস্তার কাছে এল অমনি সেই ফাঁদে আটকা পড়ে গেল।

শিক্ষা : পৃথিবীর ধন-সম্পদের প্রতি লোভীর দৃষ্টান্ত হচ্ছে গুটি পোকার ন্যায়। সে যতই তার চারিদিকে রেশম সুতা জড়াতে থাকে ততই সে নিজে বন্দি হয়ে পড়ে এবং এভাবেই তার মৃত্যু ঘটে।

(নিউজলেটারজুলাই ১৯৯১)

Leave a Comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.